AFED হল ৩০টি সুপ্রতিষ্ঠিত নাগরিক সমাজের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম যা ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সংস্থাটি সম্পূর্ণ নির্দলীয় এবং প্রমাণ-ভিত্তিক নাগরিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের কর্মপদ্ধতি নির্বাচনের দিন নমুনা-ভিত্তিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সাথে দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণকে একত্রিত করে, যা আমাদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নকে যথাযথভাবে সংগ্রহ করার মাধ্যমে নির্বাচন-পরবর্তী সংস্কারে অবদান রাখার লক্ষ্যে প্রণীত। ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সাল থেকে AFED সারা দেশে ১৭৫ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। আসন্ন নির্বাচনের দিন নমুনা-ভিত্তিক অতিরিক্ত ১,৮০০ জন (SBOs) এবং ৮০০ জন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক (STOs) ভোটদান এবং গণনা প্রক্রিয়া মূল্যায়নের জন্য আমাদের প্রচেষ্টায় যোগ দেবেন, যার মধ্যে ডাকযোগে ভোটদানের গণনা প্রক্রিয়াটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। AFED নির্বাচন পর্যবেক্ষণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ, এবং প্রশিক্ষিত পর্যবেক্ষকদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যারা কঠোর আচরণবিধি অনুসরণ করে দায়িত্বপালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিবৃতি এবং সুপারিশগুলো মাঠ থেকে নথিভুক্ত প্রমাণের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। AFED নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ‘ইউরোপীয় গণতন্ত্রের জন্য অংশীদারিত্ব’ এর (European Union and the European Partnership for Democracy) সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রসঙ্গ২০২৪ সনের ৫ আগষ্ট ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করার পর প্রথমবারের মত জাতীয় পর্যায়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরপর থেকে এই সময়কালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জুলাই সনদ গ্রহণ সহ একটি সংস্কার প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন ও গণভোট, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। মূল পর্যবেক্ষণসমূহ নিম্নলিখিত মূল তথ্যগুলো ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের মধ্যে পরিচালিত পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। • নির্বাচনী প্রস্তুতিসারা দেশে ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের প্রস্তুতি বেশ জোরেশোরে চলছে। বাংলাদেশে যেকোনো নির্বাচন আয়োজন করা একটি জটিল কাজ এবং নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, প্রস্তুতি যথাসময়ে সুসম্পন্ন হবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা তাদের নিজস্ব প্রস্তুতি বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করছেন। AFED এর নাগরিক পর্যবেক্ষকদের সাথে দেখা হওয়া ৯৮ শতাংশেরও বেশি কর্মকর্তা বলেছেন যে, তারা নির্বাচনের দিনের জন্য খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। নির্বাচন কমিশন বিগত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করে। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের ৮২ শতাংশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ভোটগ্রহণ কর্মীদের নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ ঠিকমত সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ২০০ জন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তার সাথে মাঠ পর্যায়ের বৈঠকের ভিত্তিতে জানা যায় যে, মাত্র ৩৯ শতাংশ নিশ্চিত করেছেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিঙ্গ ভারসাম্য এবং সংখ্যালঘু অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। AFED নাগরিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা যেসব দল এবং দলগুলোর প্রার্থীর সাথে দেখা করেছেন তারা নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা প্রকাশ করেছেন, এদের মধ্যে ৮০ শতাংশেরও বেশি মনে করেন যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ। • প্রার্থীদের মনোনয়ন মোট ২,০৩৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ৫১ জন রাজনৈতিক দলের হয়ে এবং অবশিষ্ট ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। নির্বাচন কমিশনের মতে, মাত্র ৭৯ জন মহিলা প্রার্থী এবং একজন মাত্র প্রার্থী হিজড়া প্রার্থী। নির্বাচনে নারীদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা ভয়াবহ। এটি প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক জীবনে নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। • ভোটারদের তথ্য/শিক্ষা ভোটারদের তাদের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অধিকার এবং ভোটদানের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিশ্চিত করার জন্য ভোটার শিক্ষা এবং তথ্য অপরিহার্য। তা সত্ত্বেও, AFED দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষকরা এই বিষয়ে সীমিত প্রচেষ্টা দেখেছেন। ভোটার শিক্ষা কার্যক্রম এবং উপকরণ মাত্র ৮২ শতাংশের মধ্যে দেখা গেছে, যেখানে AFED এর পর্যবেক্ষণে ৫০ শতাংশের মধ্যে গণভোট সম্পর্কে তথ্য বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটের পক্ষ নিতে দেরি করে শুরু করেছিল, তবুও ৬০ শতাংশ নির্বাচনী প্রচারণায় একটি নির্দিষ্ট গণভোটের ফলাফল প্রচার করা হয়েছে। ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য এবং মোটামুটি স্বল্প সময়ের মধ্যে গণভোটকে আরও ব্যাপকভাবে পরিচিত করার জন্য জোরালো প্রচেষ্টার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করি। তবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণভোটে “হ্যাঁ” এর পক্ষে স্পষ্টভাবে সমর্থন জানিয়েছে, যা রাজনৈতিক অংশীদারদের মধ্যে বিতর্ক এবং নির্বাচন কমিশনের সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। • নির্বাচনী প্রচারণা নির্বাচনী প্রচারণা বেশ জোরেশোরে চলছে, এবং রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা উৎসাহের সাথে সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছেছেন। নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে ২২ জানুয়ারী শুরু হয়েছিল কিন্তু AFED পর্যবেক্ষকরা এই তারিখের আগে মোট ২৩৯টি প্রচারণা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেছেন। AFED পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণ করা প্রচারণায় দুর্নীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রায় অর্ধেক প্রচারণায় দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন যৌথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, যেখানে সকল প্রার্থী একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেছেন এবং আচরণবিধি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, AFED ৪৫৪টি প্রচারণা সমাবেশ পর্যবেক্ষণ করেছে। রাজনৈতিক দল এবং প্রতিযোগীদের সাথে ৯০ শতাংশ কথোপকথনে এটি ইতিবাচক যে প্রচারণা দলগুলো নিশ্চিত করেছে যে তারা সাধারণত তাদের প্রচারণা স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম। এটি AFED-এর পর্যবেক্ষণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে, দল বা প্রার্থী দলগুলো প্রকাশ করেছে যে, তারা নির্দিষ্ট ভেন্যুতে অবস্থানের জন্য অনুমতি প্রত্যাখ্যানের সম্মুখীন হয়েছেন। AFED পর্যবেক্ষকদের নগদ অর্থ বা পণ্যের মাধ্যমে ভোট কেনা এবং উপহার প্রদানের ২৮টি ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল, যেমন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, পরিবহন টোকেন বা মোবাইল রিচার্জ, যা আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে, প্রচারণার সময় AFED সরাসরি খাদ্য বিতরণের ৫৬টি ঘটনা এবং অর্থ বিতরণের দুটি ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে। প্রচারণার উপকরণের জন্য প্রতিষ্ঠিত নিয়ম লঙ্ঘনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে প্রচারণার উপকরণে রঙের ব্যবহার, আকারের সীমা অতিক্রমকারী ব্যানার এবং ফেস্টুন এবং নিষিদ্ধ ছবি ব্যবহার সম্পর্কিত অসংখ্য ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। AFED পর্যবেক্ষকদের সাথে দেখা করা ২০০ জন নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তার মধ্যে ৩৭ জন উল্লেখ করেছেন যে, তারা প্রচারণা লঙ্ঘনের নথিভুক্ত পেয়েছেন, যার ফলে সতর্কতা এবং নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং আরও তদন্ত করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ করা প্রচারণা সমাবেশের দুই-পঞ্চমাংশে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে, বেশিরভাগ অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি যথাযথ বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তবে ২০ শতাংশে অপর্যাপ্ত বলে মনে করা হয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতা এবং ভয়ভীতি বাংলাদেশের নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতার ইতিহাস রয়েছে। তবে, বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত সহিংসতার মাত্রা কম। তবে, ভোলা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ জেলায় নির্বাচন-সম্পর্কিত হত্যাকাণ্ড এবং সহিংস ঘটনার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলি উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করে AFED। রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থী দলগুলো থেকে দলীয় সমর্থক, স্বেচ্ছাসেবক বা প্রচার কর্মীদের উপর দাঙ্গা, সংঘর্ষ এবং শারীরিক আক্রমণের ২৫টি প্রতিবেদন পেয়েছে AFED। তবে, রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডাররা মাত্র অর্ধেক ক্ষেত্রে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এছাড়াও, তারা ভয় দেখানো এবং হয়রানির ৭৫টি ঘটনার কথা জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের দুই-তৃতীয়াংশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে তারা সংবেদনশীল এবং উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ভোটকেন্দ্র পরিচালনা করছেন। নির্বাচনের দিন, তারা